করোনা ভাইরাস রোগ (কোভিড-১৯) নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

Share

 

 

এই প্রশ্ন-উত্তরগুলো প্রথম বের হয় ইন্ডিয়াবায়োসায়েন্সের ওয়েবসাইট এ

 

করোনাভাইরাস কি এবং এ নিয়ে লোকে এত চিন্তিত কেন?

 

কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস সংক্রামক অসুখ ২০১৯) একটা অসুখ যা করোনাভাইরাস নামের এক ধরনের ভাইরাস থেকে হয়। করোনাভাইরাসের দেহে খোঁচা খোঁচা কাঁটার মতো কিছু জিনিস দেখা যায়। এদের অনেকটা মুকুটের মতো দেখতে লাগে। তাই মুকুটের লাতিন প্রতিশব্দ করোনা থেকেই এসেছে এই ভাইরাসের নাম।

মানুষের শরীরের অনেক রোগ, যেমন পোলিও, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাধারণ ঠান্ডা লাগা ইত্যাদি ভাইরাস থেকে হয়। কিছু কিছু রোগের টীকা আছে। তার মধ্যে কিছু টীকা আমাদের সকলকেই নিয়ম করে ছোটবেলায় নিতে হয়। আবার কিছু টীকা, যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জার টীকা আমরা চাইলে বড় বয়েসে নিতে পারি। তবে এটা প্রত্যেক বছর নিতে হয়। এই টীকা নেবার পরে যখন সেই ভাইরাস আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, আমাদের শরীর সেটাকে চিনে তার প্রতিরোধ করতে পারে।

আমাদের শরীরে যখন কোন অচেনা ভাইরাস ঢুকে পরে, তখনই দেখা দেয় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসগুলো শুয়োর, পাখি, বাদুড় বা অন্য জন্তুদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে থাকে। তবে কখনোসখনো তার একটা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লেই দেখা দেয় নতুন রোগ – যেমন এই কোভিড-১৯। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে কোভিড-১৯ এর ভাইরাস বাদুড় থেকে এসেছে।

কোভিড-১৯ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তার বেশ কিছু কারণ আছে। প্রথমত, এটা একটা রেস্পিরেটরি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ যা সহজেই একজনের থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত, অল্পসংখ্যক কিছু মানুষের এর থেকে মৃত্যু হতে পারে। তৃতীয়ত, এই রোগের বিরুদ্ধে লড়বার কোন স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা বা ইমিয়ুনিটি আমাদের শরীরে নেই। এখন অবধি এই রোগের কোন টীকা বা ওষুধও তৈরি হয়নি।

 

এই রোগের উপসর্গ কী? এটা ছড়ায় কিভাবে?

 

অধিকাংশ লোকের হালকা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন (প্রবল) জ্বর, শুকনো কাশি আর ক্লান্তি। কিছু কিছু লোকের গা-ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, পেশী আর হাড়ের জোড়ে ব্যাথা, গলা ব্যাথা, মাথাধরা, কাঁপুনি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অতিসার (পেট খারাপ) ও হতে পারে। অল্পবয়স্কদের তুলনায়ে বয়স্ক লোকেদের এই রোগ বেশি কাহিল করে দেয়। ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রভাব খুবই কম। যাদের আগে থেকেই সুগার, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ আছে, বা যাদের দেহের প্রতিরোধশক্তি কম, তাদের মধ্যে আরও গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। শতকরা বিশ শতাংশ লোকের নিউমোনিয়া বা অন্য কোন কঠিন সমস্যা হতে পারে।

হাঁচি-কাশির সময় আক্রান্ত মানুষের মুখ বা নাক থেকে ভাইরাস-সংক্রামিত ফোঁটা ছড়িয়ে পরে। এইগুলো নানা জায়গার উপর অনেকক্ষণ অবধি থাকতে পারে। এ সব জায়গায় হাত দিয়ে, সেই হাত মুখে বা নাকে দিলে ভাইরাস আপনার শরীরে এবং ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে।

 

এই রোগ থেকে নিজেকে এবং অন্যদের বাঁচাতে আমি কি কিছু করতে পারি?

 

হ্যাঁ, অবশ্যই। এই ভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ ধরে ছড়ায় – মানে হাঁচি-কাশির সঙ্গে সংক্রামিত ফোঁটা ছড়িয়ে পরে এবং সেগুলো এখানে সেখানে লেগে থাকে। যে সব জায়গা আমরা মাঝে মাঝে ছুঁই, যেমন অন্য লোকের হাত, দরজার হাতল বা ছিটকিনি, রেলিঙ ইত্যাদি, সেখান থেকে ভাইরাস আপনার হাতে লাগতে পারে এবং তার পর আপনার মুখে এবং ফুসফুসে ঢুকে পড়তে পারে। এর থেকে বাঁচার উপায়? ভালো করে হাত ধুন। এর জন্য ইউটিউবে দারুণ সব ভিডিও পাওয়া যায়। এখানে ডাক্তার-নার্সদের হাত ধোয়ার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে। হাত ধোয়ার আগে কলের যে অংশটা ধরে আপনি কলটা খোলেন বা বন্ধ করেন, সেটা সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। এবার হাত ধোয়ার সময় আপনি বারবার কল খুলতে/বন্ধ করতে পারবেন। এতে অনেকটাই জলের অপচয় কমাতে পারবেন।

সাবান আর জল না থাকলে অ্যালকোহল দেওয়া স্যানিটাইসার ব্যবহার করুন। যতদুর সম্ভব মুখ আর নাকে হাত না দিয়ে থাকুন।

এ ছাড়াও ভাইরাসে আক্রান্ত লোকের সাথে শারীরিক সংস্পর্শ বাঁচাতে ভিড় জায়গা এড়িয়ে চলুন। মানুষের মধ্যে এই শারীরিক ব্যাবধান রাখাকেই বলা হয় সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং।  তিন থেকে ছয় ফুটের ব্যাবধান রাখাটাকে "নিরাপদ" মনে করা হয়। করমর্দন (হ্যান্ডশেক) করবেন না। ভারতীয় মতে নমস্কার বা আদাব জানান। এতে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকবে। 

 

 বাড়ি থেকে বেরলেই কি মাস্ক পরা জরুরী?

 

বর্তমানে সরকারি নির্দেশ অনুসারে বাড়ি থেকে বেরলেই মাস্ক পরুন। আপনার যদি কোভিড-১৯ হয়ে থাকে, তবে মাস্ক পরলে আপনি অন্যকে ভাইরাস থেকে বাঁচাবেন। যদিও কোভিড-১৯  রুগির কাছে গেলে নিজেকে বাঁচাতে সাধারন মাস্কের কার্যকারিতা কম। সাধারণ লোকে বেশি এন ৯৫ জাতীয় মাস্ক ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্য যাদের সত্যিই এটা প্রয়োজন, তাদের কম পড়বে। তাই সাধারন বা বাড়িতে বানানো মাস্ক ব্যবহার করুন। 

 

আমার যদি জ্বর বা কাশির মতো উপসর্গ থাকে তবে আমার কি করা উচিত? আমার কি ডাক্তার দেখানো উচিৎ না কি সকলের থেকে আলাদা থাকা উচিৎ?

 

যেহেতু কোভিড-১৯ এর লক্ষণগুলির সাথে সাধারণ মরশুমি জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জার কোনও পার্থক্য নেই, তাই জ্বর ও কাশি আছে মানেই যে আপনি করোনা আক্রান্ত, তার কোন নিশ্চয়তা নেই, আপনার হয়ত সাধারণ মরশুমি জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়েছে। তবুও আপনি যদি নিজেকে করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করেন, তবে প্রথমেই আপনাকে 'সেলফ-কোয়ারান্টিনে' থাকতে হবে অর্থাৎ বাড়ির কোন একটি নির্দিষ্ট ঘরে অথবা এমন কোন জায়গায় থাকতে হবে যেখানে অন্যান্য লোকের সঙ্গে আপনার যতটা সম্ভব কম মেলামেশা হবে, যাতে আপনার থেকে রোগটি অন্য কারোর শরীরে না ছড়ায়। এটা যতটা সম্ভব কঠোরভাবে পালন করা উচিত। এমনকি যারা আপনার দেখাশোনা করবেন, তারাও যেন আপনার সাথে কোনরকম শারীরিক সংস্পর্শে না আসেন। এরপর আপনার কাছের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বা হেল্পলাইনে জানান ও তাদের পরামর্শ মতো চলুন। 

নিজেকে ও অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে কিছু জিনিস অভ্যাস করুন। প্রথমত কাশি বা হাঁচির সময় নিজের নাক ও মুখ কনুই দিয়ে অথবা রুমাল বা টিস্যু দিয়ে ঢাকুন এবং ব্যাবহৃত টিস্যু ঢাকনা দেওয়া পাত্রে ফেলে দিন। এছাড়াও, নিয়মিত আপনার হাত ধুয়ে নিন এবং আপনার চারপাশের লোকদের একই কাজ করতে বলুন, বিশ্রাম নিন, প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ফল খান। যদি আপনার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তবে পরামর্শের জন্য স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত হেল্প লাইনে ফোন করুন। সাধারণ ভাবে, পরামর্শ না নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাবেন না, বিশেষত যখন আপনার রোগের লক্ষণগুলি হালকা। যদি আপনি করোনা ভাইরাস সংক্রামিত হন, তবে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আপনার নিজের অজান্তেই ডাক্তারসহ অনান্য লোকের মধ্যেও রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।  

 

আমি শুনেছি যে যাদের করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হয় তাদেরকেই 'কোয়ারান্টিন' করা হয়। এর মানে কি? এতে ভয় পাওয়ার কিছু আছে কি ? 

 

 সাধারণত দুই ধরনের কোয়ারান্টিন হয়। 

একটিতে,আপনাকে সরকারের ঠিক করা জায়গায় বা ঘরে রাখা হবে, যাতে আপনার সাথে অন্যান্য সুস্থ লোকের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।  এটি সাধারণত তাদের ক্ষেত্রেই করা হয়, যাদের থেকে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল, যেমন আপনার দেহে যদি করোনার প্রাথমিক লক্ষণগুলি দেখা যায় বা আপনি করোনা আক্রান্ত কোন লোকের সংস্পর্শে এসে থাকেন। তবে মনে রাখবেন এ ব্যাপারে সরকারি নীতি মাঝে মাঝে পালটাতে পারে। 

অন্যটায়, যদি আপনি কোন ব্যক্তির কাছাকাছি এসে থাকেন যিনি পরবর্তীকালে করোনা আক্রান্ত বলে পরীক্ষায় ধরা পড়েন, তখন আপনাকে 'সেলফ- কোয়ারান্টিন' অর্থাৎ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দিও থাকতে বলা হতে পারে। এর অর্থ হ'ল আপনাকে বাড়ির কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘরে অথবা এমন কোনো জায়গায় থাকতে হবে যেখানে অন্যান্য লোকের সঙ্গে আপনার যতটা সম্ভব কম যোগাযোগ থাকবে। 

কোয়ারান্টিনের সময় আপনার সাথে অন্য সকলের শারীরিক সংযোগ যাতে কম হয় সে বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আপনার শরীরের ভাল-মন্দের দিকে সর্বদা নজর দেওয়া হবে, এবং এই কোয়ারান্টিনের শেষে যদি আপনার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে, তখন আপনাকে করোনা-মুক্ত বলে কোয়ারান্টিনের থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। সাধারণত এই কোয়ারান্টিন দু সপ্তাহের হয়। 

কোয়ারান্টিনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সাধারণত আমরা যে ধরনের শারীরিক ও সামাজিক মেলামেশার করে থাকি, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কিছুটা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হতে পারে। কিন্তু যদি ভাল ভাবে কোয়ারান্টিনের জায়গার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আপনি অবশ্যই পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতে এবং বাইরের জগতের সমস্ত খবরাখবর রাখতে পারেন। এছাড়াও আপনার পুষ্টিকর খাবার ও অনান্য সুযোগ সুবিধার দিকেও নজর রাখা হবে যাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। 

দেশে রোগ ছড়ানোর হার নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করার সাথে সাথে কোয়ারান্টিনের নিয়মগুলিরও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কাদের কোয়ারান্টিন করা হবে আর কাদের করা হবে না সে বিষয়ে সরকার পরে নিয়ম আরও কঠিন করতে পারে। 

 

চীন থেকে আসা পণ্য ব্যবহার করলে অথবা মাংস ও আমিষ জাতীয় খাবার খেলে কি আমার  কোভিড-১৯ হতে পারে?  

 

না, কোনভাবেই না। মনে রাখবেন এই ভাইরাস মানুষের থেকে মানুষে ছড়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে দিয়ে। আমাদের আশেপাশে থাকা বেশীর ভাগ প্রাণীর মধ্যে এই ভাইরাস পাওয়া যায় না। তাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সাথে মাংস খাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। এছাড়াও, এই জাতীয় ভাইরাস আলো-হাওয়ার মধ্যে থাকা জিনিসের উপর বেশি দিন বেঁচে থাকে না এবং উচ্চ তাপমাত্রা খুব সহ্য করতে পারে না। চীন থেকে ভারতে পণ্য পৌঁছতে যে সময় লাগে তাতে ভাইরাস জীবিত থাকবে না। তাই কোনও রকম ভয় ছাড়াই চীনা পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।

 

করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আছে? করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার জন্য কোনো ওষুধ আছে? 

 

না, এখনও পর্যন্ত এরকম কোন ওষুধ বা প্রতিষেধক পাওয়া যায় নি, যদিও সারা বিশ্বের বহু গবেষণাগারেই এর খোঁজ চলছে। অনেকগুলো সম্ভাব্য প্রতিষেধক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে এবং তার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ কোভিড -১৯ রোগীদের ওপর পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যে তা কাজ করবে কি না। একটা নিরাপদ প্রতিষেধক তৈরি করতে সাধারণত এক থেকে দুই বছর সময় লাগে।

 

আমি শুনেছি যে ভেষজ জড়িবুটি, আয়ুর্বেদিক বা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কোভিড ১৯ এর মোকাবিলা করতে পারে। এসব কি সত্যি? 

 

প্রচুর লোক হোমিওপ্যাথিক বা আয়ুর্বেদিক ওষুধে আস্থা রাখলেও কোভিড -১৯ এর ওপর এইসব ওষুধের প্রভাব সম্পর্কে আমরা আসলে খুবই কম জানি। কিছু ক্ষেত্রে এসব ওষুধ কাজ করার গল্প শোনা যায়। মনে রাখবেন স্বাস্থ্য শরীর আর মন, দুটোর উপরেই নির্ভর করে। তাই যে ওষুধ কাজ করে না তার উপরেও যদি আপনার অগাধ বিশ্বাস থাকে, তাহলে সেটা আপনার শরীরকে অসুখের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। একে বলা হয় ‘প্ল্যাসেবো এফেক্ট’।

তবে এই ধরনের সংক্রমণ ও তার ছড়িয়ে পড়া রুখে দেবার কয়েকটা খুব কার্যকর উপায় আমরা জানি -- শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে নেওয়া, আর ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। যতক্ষন আপনি নিজের এবং আপনার আশেপাশের মানুষদের সুরক্ষার জন্য এইসব প্রতিষ্ঠিত নিয়মগুলো মেনে চলছেন, অনান্য অপরীক্ষিত উপায়ের সাথে একে গুলিয়ে ফেলছেন না, ততক্ষণ কোনো সমস্যা নেই। এছাড়াও, আপনার স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার জন্য তাজা ফল এবং শাকসবজি খান, সূর্যের আলোতে থাকার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খান। মানসিক চাপ কম করার চেষ্টা করুন, কারণ মানসিক চাপ আপনার দেহের স্বাভাবিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। 

 

কোভিড-19 এর ছড়িয়ে পড়া রুখতে সরকার কি করছে?

 

সরকার এবং আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তারা অত্যন্ত সাবধানতার সাথে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু (ডাব্লুএইচও) এর নির্দেশাবলী অনুসরণ করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যার উপর নজর রাখছে এবং ডাক্তাদের / হসপিটালগুলিকে রোগীদের কিভাবে আলাদা জায়গায় রাখতে হবে বা কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে সে সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছে। এছাড়াও, ভিসা বাতিল করে সরকার বাইরের দেশের থেকে লোকের এ দেশে ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছে। যাদের কোভিড-১৯ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।অনেক জায়গায় কোয়ারানটিন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে কারুর যদি সন্দেহ হয় যে তার কোভিড-১৯ হয়েছে, তাহলেই তার পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে এখনো এতো পরীক্ষার ব্যবস্থা করে ওঠা সম্ভব হয়নি। 

অদূর ভবিষ্যতে কি হবে তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। করোনা ভাইরাসের যদি "গোষ্ঠীসংক্রমণ" বা "কমিউনিটি ট্রান্সমিশন" শুরু হয়, তাহলে এতো মানুষ আক্রান্ত হবেন যে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙ্গে পরবে। তাই এই মুহূর্তে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, সেলফ-কোয়ারান্টিন ব্যবহার করা, করোনা আক্রান্তদের খুঁজে বের করা এবং এদের সংস্পর্শে এসে যাদের করোনার উপসর্গ দেখা দিতে পারে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

 

এই রোগ কি অনেকদিন থাকবে না তাড়াতাড়ি চলে যাবে? গরম পড়লে কি ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া কমে যাবে? ঠাণ্ডা পড়লে কি এই রোগ আবার দেখা দেবে?

 

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন।ফ্লু এর মতো কিছু ভাইরাল রোগ গরম কালের থেকে শীতকালে বেশী ছড়ায়। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে কি হবে আমাদের কোন ধারনা নেই। হয়তো গ্রীষ্মকালে করোনা ভাইরাসের দাপট একেবারে চলে যাবে, হয়তো আবার ফিরে আসবে এই রোগ (এর সম্ভবনাই বেশী); এই মুহূর্তে আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না। 

 

করোনাভাইরাস সম্পর্কে সঠিক, বৈজ্ঞানিক এবং সাম্প্রতিকতম তথ্য কোথায় পাবো?

 

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন হু (ডাব্লুএইচও), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং ইউরোপীয় সিডিসির ওয়েবসাইটগুলোতে সঠিক তথ্য পেতে পারেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বিবিসির মতো বিশিষ্ট সংবাদপত্র এবং সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইটের তথ্যও বিশ্বাসযোগ্য। বেশ কয়েকটা ভারতীয় সংবাদপত্রও করোনভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন করেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে তথ্যের মুল উৎস দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ, যেমন  হু (ডাব্লুএইচও) র বা ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের ওয়েবসাইট, যেখানে বর্তমান নির্দেশিকাগুলো দেওয়া থাকে। 

 

আমার ব্যক্তিগতভাবে কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?

 

আপনি যদি ৬০ বছরের কম বয়সী হন এবং আপনার আগে থেকে কোনো অসুখ না থাকে, আপনি হয়তো বুঝতেও পারবেন না যে আপনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে, আপনি যদি বয়স্ক হন, বা অন্যান্য অসুখের জন্য যদি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে থাকে, তাহলে আপাতত অন্যদের থেকে (এমনকি পরিবারের সদস্যদের থেকেও) শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন আর নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখুন।  

তবে সব বয়সের লোকেদেরই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বা ঘনঘন হাত ধোয়ার নির্দেশ মেনে চলা উচিত। যদি জানেন কোন লোকের কোভিড-১৯ হয়েছে, তাহলে সে সেরে ওঠা পর্যন্ত তার থেকে দূরে থাকুন। যদি মনে হয় আপনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, তাহলে কোভিড-১৯ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।

 

 

বিশেষ ধন্যবাদ: শাহীদ জামিল, ওয়েলকাম ট্রাস্ট / ডিবিটি ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্সের সিইও, এবং গগনদীপ কাং, টিএইচএসটিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক।