Media Mentions: বহু প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় চালু হল কোভিডজ্ঞান ওয়েবসাইট

৩ রা এপ্রিল ২০২০

আজ সঙ্কটের মাঝে আছে দুনিয়া

কোভিড-১৯ সারা পৃথিবীতে এক নজিরবিহীন মহামারীর আকার নিয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে এর মধ্যেই ১০ লক্ষেরও বেশী মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। পরীক্ষা হয়নি অথচ ভাইরাসে আক্রান্ত এমন লোকের সংখ্যা নিঃসন্দেহে আরও অনেক বেশী। মহামারীকে হারানোর এই যুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। নেপথ্যে থেকে হাতে হাত মিলিয়ে লড়ে চলেছেন বিপুল সংখ্যক গবেষক ও বিজ্ঞানী। তারা বুঝতে চেষ্টা করছেন করোনা ভাইরাসের সঠিক চরিত্র, এর সংক্রমণ পদ্ধতি ও রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পন্থা। দেখার চেষ্টা করছেন নতুন প্রযুক্তিকে এই যুদ্ধে কি করে ব্যবহার করা যায়। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবনযাপনের সমস্যা থেকে যোগাযোগ ব্যাবস্থা বজায় রাখা -- এরকম নানা বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন আমাদের বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়াররা।  

কোভিডজ্ঞান কি ?

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা রকম তথ্যের স্রোত আসছে আমাদের কাছে। এর মধ্যে কোনটা বিশ্বাসযোগ্য আর কোনটা ভুল তথ্য তা ঠিক করা সাধারন মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান মিলে কোভিডজ্ঞান নামে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় বিজ্ঞান প্রচারের এক উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের প্রাথমিক ভাবনা আসে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (টিআইএফআর), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি) ও টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার (টিএমসি) এর থেকে। এতে সাহায্য করে বিজ্ঞান প্রসার, ইন্ডিয়াবায়োসায়েন্স ও ব্যাঙ্গালোর লাইফ সায়েন্স ক্লাস্টার (বিএলআইএসসি - যা ইনস্টেম, সিসিএএমপি ও এনসিবিএস-টিআইএফআর এর একটি সমন্বয়)। এই উদ্যোগের ফসল কোভিডজ্ঞান ওয়েবসাইটঃ https://covid-gyan.in.  

এই ওয়েবসাইট-এ গুজব ও তথ্যের পার্থক্য বোঝানো হবে বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে

কোভিডজ্ঞান সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বক্তব্য :

এই উদ্যোগটির মুল সমন্বয়কারী বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিকাল সায়েন্সেস (আই সি টি এস) এর কেন্দ্রীয় অধিকর্তা অধ্যাপক রাজেশ গোপাকুমার। তাঁর মতে এর মূল উদ্দেশ্য হল “কোভিড-১৯ সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান সম্মত এবং বিশ্বাসযোগ্য বিষয়বস্তু তৈরি করা, বাইরে থেকে বিষয়বস্তু যাচাই করে এক জায়গায় রাখা, আর সাধারন মানুষের মধ্যে এসব প্রচার করা।" উনি মনে করিয়ে দেন যে সাধারণ নাগরিক এবং যারা বিজ্ঞানে আগ্রহী, এই দুই ধরনের মানুষের জন্যই এই উদ্যোগ, যাতে সবাই এই রোগের ব্যাপারে ঠিকঠাক খবর পেতে পারেন।
 
ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস (এন সি বি এস) এর কেন্দ্রীয় অধিকর্তা অধ্যাপক সত্যজিত মেয়র জোর দিয়ে বলেন যে এন সি বি এসের বিজ্ঞানীদের মধ্যে ভাইরাস থেকে শুরু করে বাস্তুতন্ত্র অবধি জীববিজ্ঞানের সমস্ত বিষয়ের ওপরেই অনুসন্ধান করার দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আছে।  উনি বলেন " কোভিড-১৯ নিয়ে এই সঙ্কটের সময়ে জীবজগত সম্পর্কে আমাদের গভীর বিজ্ঞানচেতনাকে কাজে লাগিয়ে সমগ্র পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা ও সমাধানের রাস্তা বের করা খুবই জরুরী।"
 
অধ্যাপক অর্ণব ভট্টাচার্য, (টি আই এফ আর মুম্বাই এর বিজ্ঞান প্রচারের উদ্যোগ "চায় অ্যান্ড হোয়াই" এর উদ্যোক্তা) , বলেন যে কোভিড-১৯ সম্পর্কে অজস্র ভুল তথ্যের সুনামিকে রোখার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের খুবই প্রয়োজন। জলবায়ুপরিবর্তনের মতো এই মহামারীও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিজ্ঞানকে অস্বীকার করলে খুব তাড়াতাড়ি বিশ্ব জুড়ে সমস্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে।  ভারতের বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় সকলের সামনে তুলে ধরার জন্যই কোভিড-জ্ঞানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টি আই এফ আর হায়দ্রাবাদের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা অধ্যাপক ভি চন্দ্রশেখর এই জরুরী অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কোভিড-১৯ বিশ্ব জুড়ে নানা দেশে হানা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমগ্র বিজ্ঞানীমহলকে একসাথে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। টি আই এফ আর এর অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে টি আই এফ আর হায়দ্রাবাদের  বিজ্ঞানীরাও এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন ।
 
মুম্বাইয়ের হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন এর কেন্দ্রীয় অধিকর্তা অধ্যাপক কে সুব্রমনিয়মের বক্তব্যঃ কোভিডজ্ঞান উদ্যোগে যারা সামিল হয়েছে সেইসব প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিজ্ঞান গবেষণা, বিজ্ঞান প্রচার এবং বিজ্ঞান শিক্ষা – তিন স্তরেই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে। এই যৌথ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে  জনসাধারন এবং যাঁরা বিভিন্ন ভূমিকায় এই মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন --- তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য। তিনি মনে করেন যে আমাদের দেশের বিভিন্ন জটিলতার কথা মাথায় রেখে এইসব বৈজ্ঞানিক তথ্য পেশ করা খুবই জরুরী।   
 
কোভিডজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে টি আই এফ আর এর তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান (থিওরেটিকাল ফিজিক্স)  বিভাগের অধ্যাপক অমল দিঘে বলেন যে কোভিড-১৯ প্রত্যেক মানুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে অসুবিধায় ফেলছে । এর বিরুদ্ধে লড়াই তাই শুধু চিকিৎসা দিয়ে নয়, সামাজিক স্তরেও করা প্রয়োজন। সেজন্য সমাজের প্রত্যেকস্তরের মানুষের কাছে তাদের নিজস্ব ভাষায় এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকা দরকার। উনি বলেন যে কোভিডজ্ঞানে এইসব প্রয়োজনীয় তথ্য বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় পাওয়া যাবে, যাতে বিস্তৃত পাঠককুলের কাছে এই মহামারীর বিজ্ঞান এবং এই সময়ে শরীর ও মন ভালো রাখার জন্য নানারকম উপদেশ পৌঁছে যায়।

 

ইন্ডিয়াবায়োসাইন্সের কার্যনির্বাহী অধিকর্তা ডঃ স্মিতা জৈন জানাচ্ছেন যে কোভিডজ্ঞান এ অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর বিজ্ঞানীদের তৈরি বিষয়বস্তু এবং ইন্টারনেট থেকে যাচাই করে নেওয়া অন্যান্য বিষয়বস্তু এক জায়গায় পাওয়া যাবে। ইন্ডিয়াবায়োসাইন্স এর আগেও তাদের ওয়েবসাইটএ তাদের পাঠকদের জন্য নানা আকর্ষণীয় খবর ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। আজ এই দুর্যোগের দিনে তারা আশা রাখেন যে কোভিডজ্ঞান এর অংশ হয়ে আরো বেশী মানুষের কাছে তারা এই ধরনের বিষয়বস্তু  পৌঁছে দিতে পারবেন।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের জনসংযোগ আধিকারিক অধ্যাপক কুশল ভার্মা বলেছেন, কোভিড-জ্ঞান একটি সময়োপযোগী ওয়েবসাইট, যা অদূর ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠবে।

অধ্যাপক রাজেশ গোপাকুমার আরো জানান যে এই সঙ্কটে বিজ্ঞানীরা দু ধরণের ভূমিকা পালন করছেন: এক দিকে রয়েছে টীকা আর রোগ সারানোর ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা, বিভিন্ন নীতির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক উপদেশ দেওয়া; অন্যদিকে কোভিড-১৯ কে ঠেকাতে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ অনেক সময়েই তার পিছনের কারণগুলো বুঝতে পারছেন না। জনসাধারণকে এগুলো বোঝানোর দায়িত্বও বিজ্ঞানীদের। টি আই এফ আর ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রচারকদের এক জায়গায় এনে কোভিডজ্ঞান এক্ষেত্রে একটা বড়ো ভূমিকা নেবে।  

 কোভিডজ্ঞান ওয়েবসাইট এ আছে ছোট ছোট তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও, পোস্টার, ইনফোগ্রাফিক, বারে বারে ওঠা প্রশ্ন, প্রচলিত ভুল ধারনা দূর করা এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রবন্ধ।  এইসব বিষয়বস্তু  অনেকগুলো ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্যই আবার এই ওয়েবসাইট এ আসবেন – অন্য নানা ভাষায় এই পাতাটি পড়ার জন্য।
 
ওয়েবসাইটঃ https://covid-gyan.in 
১২ টি ভাষায় ভিডিওঃ  https://covid-gyan.in/videos  
 
যোগাযোগের ই-মেলঃ contact@covid-gyan.in